প্রবাসীদের দাবির সব কথা আদায়ের স্বপ্ন কখনো দেখে না প্রবাসীরা। তার পড়েও অতীব যৌক্তিক দাবি সমূহ আদায়ে কথা বলে যাচ্ছে প্রবাসীরা। কিন্ত, কয়েকটা পয়েন্ট খুব ভাবায় আমাদের যে,

প্রথমত, কেন দাবি করে প্রবাসীদের চাহিদাসমূহ আদায় করতে হবে? কেন শুধুমাত্র রিয়েক্টিভ (অভিযোগ জানানোর পর ব্যবস্থা গ্রুহন) এর পদ্ধতিতে কাজ করবে দূতাবাসগুলো বা প্রবাসী কল্যন মন্ত্রনালয়। কেন প্রোয়ক্টিভ (অভিযোগ জানানোর আগেই ব্যবস্থা গ্রহন) উপায়ে কাজ করবে না তারা। এই দপ্তরগুলোর পেছনে যত বরাদ্দ আর ব্যায়, তা দপ্তদের কর্মকর্তাদের ভরনপোষনেই সিংহ ভাগ ব্যায় হয়। করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রবাসীদের জন্য যে বরাদ্দ ছিল তাও সঠিকভাবে ব্যায় করতে পারে নাই। প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জেনেছি, এই বরাদ্দ তাদের কাছে পৌছায় নি। সারা বিশ্বে প্রবাসীরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও আমরা এমন শুনি নাই যে, দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বেতন দিতে দেড়ি হয়েছে। সারা বিশ্বে বহু প্রবাসী বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেও এমন শুনিনাই যে, কোন দূতাবাস কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। হয়ত অনেক দূতাবাস কর্মকর্তায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে, কিন্ত তা আমাদের কান পর্যন্ত আসে নাই।

দ্বিতীয়ত, কেন প্রবাসীদের সমস্যায় অনুভূতিহীন দূতাবাসে আমাদের দেয়া বেতন খাওয়া কর্মকর্তাগুলো। আশ্রয় পেতে গেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। আবার এমন অভিযোগও আসছে, দালালদের কথামত চলে এসব দূতাবাসের কর্মকর্তারা। কোন পাসপোর্ট আগে পাবে কোন পাসপোর্ট পড়ে পাবে সেটাও দালালদের নখদর্পনে। সর্বত্র একটা অবিশ্বাসের ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে, সেটা সোনার মদীনার দেশ সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসই হোক। আর মাহাথির মোহাম্মাদের মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসই হোক। অথবা হোক বিশ্বের যে কোন ন্যায় বিচারের দেশ। কোন দেশের কোন আইন আমাদের দূতাবাসের চাকরদের মানবিক আর সঠিক পথে আনতে পারছে না। ইদানিং বিভিন্ন সেবা পেতে বা অভিযোগ করতে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় গেলে, তারা প্রথমেই জিজ্ঞাস করে, ভুক্তভোগী প্রবাসী বৈধ না কি অবৈধ। অর্থাৎ একটা বড় অংশের প্রবাসীকে শুরুতেই সেবা বঞ্চিত করার একটা উপায় তারা বেছে নিয়েছে। এদের মাথায় এই সহজ যুক্তিটি ঢুকে না যে, বৈধ বা অবৈধ যেমনই হোক একজন প্রবাসী, সে যা আয় করে তা দেশের জন্যই পাঠিয়ে দেয়, পরিবারের জন্যই পাঠিয়ে দেয়। এরা কি জানে যে, ইউওরোপের বেশির ভাগ প্রবাসী অবৈধভাবেই ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছে। এই অবৈধ তোকমা দেয়া প্রবাসীরা কি বাংলাদেশ দূতাবাসের করুনায় বৈধ হয়েছে? এই প্রশ্ন আমার মাঝে অনেক বার এসেছে। এর আগে আয়ারল্যান্ড এর এক বাংলাদেশ প্রবাসীর গল্প শুনলাম, সে প্রতারিত হয় এক বাংলাদেশী দালাল দ্বারা, তার সব পেপারস কেড়ে নেয় তারা। আর আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে যায়। জ্ঞান ফিরে অসুস্থ অবস্থায় সে দ্যুতাবসে ফোনে যোগাযোগ করেও কোন সেবা পায় নাই। তখন এক এতীমখানা টাইপের এক আশ্রমে তাকে জায়গা দেয় স্থানীয়রা। এক সৌদি প্রবাসী বলল, তার বৈধ কাগজ পত্রের জন্য তার মালিক বাংলাদেশ দূতাবাসে হয়রানির শিকার হয়ে ঘৃণা প্রকাশ করেছে তার কাছে। লেবানন প্রবাসীরা সমস্যায় আছেন এই খবর আমরা এখন হতে ৬ মাস আগে টের পেলেও বাংলাদেশ দ্যুতাবাস সে বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয় নাই। যেখানে লেবানন কর্তৃপক্ষ সব জটিলতা শিথিল করেছে প্রবাসীদের জন্য, সেখানে বাংলাদেশী দূতাবাস প্রবাসীদের বাংলাদেশে ফিরার পথে নিয়ম করেছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার লেবানিজ লিরা জরিমানা, আর ৪০০ ডলার বিমান ভাড়া। যেখানে ১৬০-১৭০ ডলারে দালালের মাধ্যমে দেশে ফিরতে পারে লেবানন প্রবাসীরা।

আপনারা জেনে আশ্চার্য হবেন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় লেবানন বিষয়ে অবগত হয়েছে তাদের আন্দোলনের পড়ে, আর জরিমানারা ১লক্ষ ৪০ হাজার লেবানিজ লিরা বাতিল করেছে যখন লেবানন প্রবাসীদের উপর দূতাবাসের নির্দেশে পুলিশের হামলার খবর ভাইরাল হয়েছে। এমন ভয়ংকর সত্য ঘটনা গুলো লিখতে বসলে মহাকাব্য লিখা যাবে। মাঝে মাঝে ভাবি, সারা দুনিয়ার তাবৎ মানুষ বাংলাদেশের প্রবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ করলেও, বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে মানবিক করতে পারবেন না আপনারা।

মোঃ তারেক রহমান

প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ।